রবিবার , ৮ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২৫শে মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ

ডায়াবেটিস প্রতিরোধে সুস্থ লাইফস্টাইলের বিকল্প নেই

ডায়াবেটিসকে বলা হয় ‘মাদার অব অল ডিজিস’ বা সব রোগের মা। কারণ এই রোগের প্রভাব দেহের প্রায় সব গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গকে বইতে হয়। কিডনি, লিভার, হার্ট, ব্রেইন–সবকিছুই এই রোগের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এই রোগ একবার হলে আর পিছু ছাড়ে না। তবে জীবনযাপনে কিছু অভ্যাস সংযোজন এবং বিয়োজনের মাধ্যমে রোগটি নিয়ন্ত্রণ করা যায়।আজ থেকে দুই দশক আগেও ডায়াবেটিস নিয়ে এত কথা হতো না। কারণ রোগটি তখনো পর্যন্ত স্বল্প পরিচিত ছিল। তবে অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস,

জীবনযাপনের ধরনে অসঙ্গতিসহ নানা কারণে এই রোগ আজ ঘরে ঘরে ছড়িয়ে পড়েছে। বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বে এখন এক মহামারিতে পরিণত হয়েছে ডায়াবেটিস।চিকিৎসকদের মতে, ডায়াবেটিস চিকিৎসার চেয়ে প্রতিরোধ বেশি জরুরি। শুধু ঔষধের ওপর নির্ভরশীল না হয়ে বরং জীবনযাপনে যদি গুণগত ও স্বাস্থ্যগত পরিবর্তন আনা যায়–তাহলেই সত্যিকারের সুফল মিলবে।মঙ্গলবার (১১ নভেম্বর) রাজধানীর কুড়িলে দৈনিক যুগান্তরের হেড অফিসে অনুষ্ঠিত ‘কর্মক্ষেত্রে ডায়াবেটিস–এর প্রভাব ও প্রতিকার’ শীর্ষক এক গোলটেবিল বৈঠকে এসব কথা বলেন দেশের বরেণ্য চিকিৎসকরা। আগামী ১৪ নভেম্বর বিশ্ব ডায়াবেটিস দিবসকে সামনে রেখে আয়োজিত এই গোলটেবিল বৈঠকের সভাপতিত্ব করেন

বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) এন্ডোক্রাইনোলজি বিভাগের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান অধ্যাপক মো. ফরিদ উদ্দিন।দেশে ডায়াবেটিস চিকিৎসার অন্যতম এই পথিকৃৎ তার বক্তব্যে রোগতি নিয়ন্ত্রণে লাইফস্টাইল বা জীবনধারায় পরিবর্তনের ওপর জোর দেন। তিনি বলেন, শুধু লাইফস্টাইলে গুণগত পরিবর্তন আনার মাধ্যমে ৫০ থেকে ৬০ ভাগ মানুষকে ডায়াবেটিসমুক্ত রাখা সম্ভব।একইসঙ্গে ডায়াবেটিস চিকিৎসায় কুসংস্কার ও অপচিকিৎসা রুখে দিয়ে বৈজ্ঞানিক উপায় অবলম্বনের ওপর জোর দেন। এছাড়া দেশে পর্যাপ্ত স্ক্রিনিংয়ের অভাবে ডায়াবেটিস রোগীর আসল চিত্র উঠে আসছে কিনা, সে বিষয়েও প্রশ্ন রাখেন তিনি। কারণ অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায়, বড় কোনো শারীরিক সমস্যার মুখোমুখি হওয়ার আগপর্যন্ত রোগীরা বুঝতেই পারেন না যে তারা ডায়াবেটিসে আক্রান্ত।দেশে ডায়াবেটিস সম্পর্কে অসচেতনতার বিষয়টি সামনে এনে হলি ফ্যামিলি রেড ক্রিসেন্ট মেডিকেল কলেজের এন্ডোক্রাইনোলজি

বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. মীর মোশাররফ হোসেন বলেন, বিশ্বে এখন প্রায় ৬০ কোটি মানুষ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত। ডায়াবেটিস আক্রান্তের দিক দিয়ে বাংলাদেশ বিশ্বে সপ্তম। এই তালিকায় ওপরের দিকে থাকা সুখকর কিছু নয়, তবে এটাই বাস্তবতা। দেশে প্রায় দেড় কোটি মানুষ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত, কিন্তু এদের বড় একটা অংশ এ সম্পর্কে জানেই না। এটা এখন ছাইচাপা আগুনের মত অবস্থায় আছে।তবে শঙ্কা থাকলেও ডায়াবেটিস চিকিৎসায় বাংলাদেশ এখন বেশ ভালো অবস্থায় আছে বলে উল্লেখ করেন ঢাকা মেডিকেল কলেজের এন্ডোক্রাইনোলজি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. ইন্দ্রজিৎ প্রসাদ। তার ভাষায়, দেশে এখন পার্সোনালাইজড মেডিসিনের মাধ্যমে ডায়াবেটিসের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। একেক রোগী একেক কারণে ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হন।

তাই তাদের বয়স, রোগের ইতিহাস, ওজন এমনকি রোগীর স্বাচ্ছন্দ্য বিবেচনায় নিয়েও এখন চিকিৎসাসেবা দিচ্ছেন তারা।তিনি জানান, দেশের অন্তত ১৪টি মেডিকেল কলেজে এখন এন্ডোক্রাইনোলজি বিভাগ রয়েছে। এর মাধ্যমে তারা যেমন সার্বক্ষণিক চিকিৎসাসেবা দিচ্ছেন তেমনি নতুন এন্ডোক্রাইনোলজিস্ট তৈরির কাজও চলছে পুরোদমে।স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজের এন্ডোক্রাইনোলজি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. এ কে এম আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘কর্মস্থলে নিষ্ক্রিয় সময়ের ফলে ওজন বাড়ছে। মানুষ এখন কায়িক পরিশ্রমের চেয়ে যন্ত্রেড় ওপর বেশি নির্ভরশীল হয়ে পড়ছেন।

আর সে কারণে ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়ছে।’ এছাড়া ডায়াবেটিস প্রতিরোধে মানসিক চাপমুক্ত থাকা ও অতিভোজন এড়িয়ে চলারও পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।ঢাকা মেডিকেল কলেজের এন্ডোক্রাইনোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. মইনুল ইসলাম ডায়াবেটিসকে ‘মহামারি’ আখ্যা দিয়ে বলেন, অনেক মহামারি একটা নির্দিষ্ট সময়ের পর নিয়ন্ত্রণ করা গেলেও ডায়াবেটিস বেড়েই চলেছে।তিনিও চিকিৎসার চেয়ে প্রতিরোধে বেশি জোর দিয়ে বলেছেন, তৃণমূল পর্যায়ের স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে যেন তারা প্রান্তিক মানুষকে ডায়াবেটিস সম্পর্কে সচেতন করতে পারেন।

এছাড়া ধর্মীয়, সামাজিকভাবে গণমান্য ব্যক্তিত্ব এবং গণমাধ্যমকেও রোগটি সম্পর্কে সচেতনতা তৈরিতে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।ডায়াবেটিস প্রতিরোধ উপায় বাতলে দিয়ে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এন্ডোক্রাইনোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. মো. আবদুল হালিম খান বলেন, ‘প্রতিরোধের মূলমন্ত্র হলো সুস্থ জীবনযাপন। নিয়মিত হাঁটা বা ব্যায়াম করা, স্বাস্থ্যকর ও সুষম খাদ্য গ্রহণ, অতিরিক্ত চিনি ও তেলজাত খাবার পরিহার, পর্যাপ্ত ঘুম ও মানসিক প্রশান্তি—এসব ছোট অভ্যাসই বড় পরিবর্তন আনতে পারে। স্থূলতা, ধূমপান ও মাদক থেকে দূরে থাকা ডায়াবেটিস প্রতিরোধে বিশেষ ভূমিকা রাখে।’ডায়াবেটিসের চিকিৎসা পদ্ধতির ওপর আলোকপাত করে ডিএনসিসি হাসপাতালের কনসালটেন্ট এন্ডোক্রাইনোলজিস্ট ডা. মাজহারুল ইসলাম সোহেল বলেন, ‘ডায়াবেটিস চিকিৎসায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ-ই শুধু নয়, আবশ্যিক অনুষঙ্গ হচ্ছে সমন্বিত চিকিৎসা পদ্ধতি। যার অর্থ হলো, একজন ব্যক্তির সামগ্রিক রোগ এবং অন্যান্য চিকিৎসা বিবেচনা করে ঐ নির্দিষ্ট ব্যক্তির জন্য সঠিক এবং সবচেয়ে উপযোগী চিকিৎসা পদ্ধতি নির্ধারণ।সীমিত সম্পদ দিয়েও ডায়াবেটিস ব্যবস্থাপনা সম্ভব বলে মনে করেন ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস ও হাসপাতালের এন্ডোক্রাইনোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. মো. আতিকুর রহমান। এক্ষেত্রে ছয়টি কার্যকরী কৌশলের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, কমিউনিটি ভিত্তিক ডায়াবেটিস শিক্ষা ও সচেতনতা তৈরি করতে হবে।

প্রাথমিক স্বাস্থ্যশেবা শক্তিশালীকরণ ও ঔষধ সরবরাহ সাশ্রয়ী ও সহজলভ্য করতে হবে। জীবনযাত্রার স্বাস্থ্যকর পরিবর্তন, কমিউনিটি সম্পৃক্ততা ও সহায়তা নেটওয়ার্ক তৈরি ও নিয়মিত এসব কার্যক্রম নিরীক্ষণ ও মূল্যায়নের মাধমে অনুন্নত জনগোষ্ঠীর মধ্যে ডায়াবেটিস নির্ণয়, চিকিৎসা এবং শিক্ষার সুযোগ বৃদ্ধি করা সম্ভব।ডায়াবেটিস এবং স্থূলতা ওতপ্রোতভাবে জড়িত উল্লেখ করে বাংলাদেশ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহযোগী অধ্যাপক ডা. ইয়াসমিন আক্তার বলেন, ‘যদি স্থূলতা বা ওবেসিটি থাকে ডায়াবেটিসের সঙ্গে, তবে এই সম্পর্ককে ডায়াবেসিটি বলা হয়। বর্তমান পরিস্থিতিতে বলা যায় যে আগামী চল্লিশ বছরে এটি প্রায় ছয় গুণ বাড়তে পারে এবং এটি উন্নয়নশীল বিশ্বকে বিপদের প্রান্তে ঠেলে দিচ্ছে।’ডায়াবেটিস প্রতিরোধের জন্য চিকিৎসক এবং রোগীর মধ্যে নিবিড় সম্পর্কের ওপর গুরুত্বারোপ করেন সরকারি কর্মচারী হাসপাতালে এন্ডোক্রাইনোলজিস্ট ডা. তাহমিনা ফেরদৌসী। তিনি বলেন, ‘ডায়াবেটিস ব্যবস্থাপনা ১০০ মিটার দৌড় নয়, এটি একটি ম্যারাথন। এই দীর্ঘমেয়াদী রোগটির সঠিক ব্যবস্থাপনায় যা সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন রোগীর স্ব-যত্ন এবং চিকিৎসক ও রোগীর মধ্যে একটি শক্তিশালী পার্টনারশিপ।

এই সম্পর্ক ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের একটি অদৃশ্য কিন্তু সবচেয়ে শক্তিশালী ঔষধ।ডায়াবেটিস চিকিৎসায় আধুনিকতার ছোঁয়া লেগেছে। ডায়াবেটিস পরীক্ষা এবং ইনসুলিন গ্রহণের প্রক্রিয়াও প্রযুক্তির আশীর্বাদে অনেক সহজ হয়েছে। এ বিষয়টি সামনে এনে ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক ডা. আশিকুর রহমান বলেন, সিজিএমের (Continuous glucose monitoring) মাধ্যমে খোঁচাখুঁচি ছাড়াই এখন গ্লুকোজের মাত্রা পরীক্ষা করা যায়। এছাড়া ইনসুলিন পাম্পের মাধ্যমে সহজেই ইনসুলিন গ্রহণ করা যায়। এটা স্বয়ংক্রিয়ভাবে শরীরের চাহিদা অনুযায়ী ইনসুলিন সরবরাহ করতে পারে।অ্যাসোসিয়েশন অব এন্ডোক্রাইনোলজিস্ট অ্যান্ড ডায়াবেটোলজিস্ট অব বাংলাদেশের (এসেডবি) আয়োজনে এই গোলটেবিল বৈঠকের পৃষ্ঠপোষকতা করে এসিআই ডায়াবেটিস কেয়ার।এই আয়োজনে আরও উপস্থিত ছিলেন যুগান্তর সম্পাদক কবি আবদুল হাই শিকদার, নির্বাহী সম্পাদক এনাম আবেদীন, সম্পাদকীয় ও ফিচার বিভাগীয় প্রধান হাসান শরীফ, এসিআই-র মার্কেটিং অপারেশন্স বিভাগের পরিচালক মো. মুহসিন মিয়া এবং ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার নাজমুল হাসান মাহমুদ প্রমুখ।

 

উত্তর অঞ্চলকে মানুষ মঙ্গা এলাকা বলে থাকেন, কিন্তু বাস্তবে এটি তো অত্যন্ত সম্ভাবনাময় এলাকা নীলফামারীতে তারেক রহমান

উত্তর অঞ্চলকে মানুষ মঙ্গা এলাকা বলে থাকেন, কিন্তু বাস্তবে এটি তো অত্যন্ত সম্ভাবনাময় এলাকা নীলফামারীতে তারেক রহমান

বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন নীলফামারীকে আধুনিক জেলা হিসেবে সুস্পষ্ট পরিকল্পনা রয়েছে। এ অঞ্চলের মানুষ কৃষিজীবী, তাই কৃষি প্রধান এলাকা...

প্রবীণ সাংবাদিক জাকারিয়া কাজল আর নেই

প্রবীণ সাংবাদিক জাকারিয়া কাজল আর নেই

চির নিদ্রায় শায়িত হলেন ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ও সিনিয়র সাংবাদিক জাকারিয়া কাজল। শনিবার জাতীয় প্রেস ক্লাব ও...

Ad For Sangbad mohona