অর্ন্তর্বতী সরকারের ধর্ম উপদেষ্টা ড. আফম খালিদ হোসেন বলেছেন, আগামী ১২ তারিখের নির্বাচনে যদি আমরা হ্যাঁ ভোট বিজয়ী করতে পারি, তাহলে রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিবর্তন আসবে। সর্বগ্রাসী ফ্যাসিজম থেকে আমরা মুক্তি পাব। স্বৈরতান্ত্রিক শাসন থেকে আমরা রেহাই পাব। মঙ্গবার (২০ জানুয়ারি) দুপুরে সুনামগঞ্জ ঐতিহ্য জাদুঘর প্রাঙ্গণের মুক্ত মঞ্চে গণভোট কার্যক্রম বিষয়ে জনসচেতনতামূলক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
গণভোটে হ্যাঁ তে উদ্বুদ্ধ করে ধর্ম উপদেষ্টা বলেন, সংবিধানের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট যদি পরিবর্তন করতে হয় তাহলে গণভোট লাগবে। সরকারি দল ইচ্ছা করলে কলমের খোঁচায় পরিবর্তন করতে পারবে না। প্রধানমন্ত্রী ও স্পিকার হবেন সরকারি দল থেকে এবং ডেপুটি স্পিকার ও সংসদীয় কমিটিগুলোর সভাপতি হবেন বিরোধী দল থেকে। পলিটিক্যাল পার্টি যত পপুলারই হোক ঐ দল থেকে প্রধানমন্ত্রী হতে পারবেন দুই মেয়াদে ১০ বছর। তৃতীয় টার্মে তিনি প্রাইম মিনিস্টার হতে পারবেন না। সংসদে উচ্চ কক্ষে থাকবেন ১০০জন। এটা আগে কোনদিন ছিল না। এটা গণভোটের বৈশিষ্ট্য। বিগত তিনটা নির্বাচন নির্বাচনের নামে প্রহসন ছিলো জানিয়ে ধর্ম উপদেষ্টা বলেন, অতীতে ভোটের দিন আমরা স্কুলের মাঠে ছাগল চড়তে দেখেছি।
এবার আর ছাগল চড়বে না। এবার জনগনের অংশগ্রহণে ভোট কেন্দ্র মুখরিত হবে। দীর্ঘ দিন পর দেশে একটা অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ, ইনক্লোসিভ, অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে। অতি উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে এটা অনুষ্ঠিত হবে।নির্বাচনে কোনো অনিয়মের সুযোগ নেই জানিয়ে তিনি বলেন, আর্মিরা সিসি ক্যামেরা লাগিয়েছে। পুলিশের বুকে ক্যামেরা অন থাকবে। বডি ক্যামেরা অন থাকবে। কেউ অপরাধ করলে মুহূর্তের মধ্যে ধরা পড়ে যাবে।

সরকারের কেউ যদি বিশেষ কোন প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণায় অংশ নেন সেটার যদি প্রমান থাকে তাহলে সংশ্লিষ্ট অফিসারের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থাও নেওয়া হবে। জুলাই সনদে বিসমিল্লাহ না থাকার বিষয়ে ব্যাখ্যা দিয়ে ধর্ম উপদেষ্টা বলেন, একটা প্রচারণা শুনছি জুলাই সনদে আল্লাহর উপর বিশ্বাস- বিসমিল্লাহ নাই কেন? জুলাই সনদ আপনারা পাশ করে দিলে আমরা সেটা সংবিধানে যুক্ত করে দিব। মূল সংবিধানের উপরে লিখা আছে ‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম’। তাছাড়া সংবিধানে স্পষ্ট করে লিখা আছে এই প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রীয় ধর্ম ইসলাম। সংবিধানে যেখানে স্পষ্ট লিখা আছে, তাহলে জুলাই সনদে থাকতে হবে কেন? জুলাই সনদ সংবিধানের একটা পার্ট। এখানে হ্যাঁ ভোট দিলে ঈমান যাবে কেন, এ ফতুয়া আমার বুঝে আসে না।
এগুলো হচ্ছে মিথ্যা প্রচারণা। সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক ড.মোহাম্মদ মিয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন পুলিশ সুপার এবিএম জাকির হোসেন, জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা শাকুর মাহমুদ মিয়া, ইসলামি ফাউন্ডেশনের উপপরিচালক মো: মোশাররফ হোসেন, খ্রীষ্টান চার্চের সভাপতি ন্যাথালিয়ান এডউইন ফেয়ারক্রস, সুনামগঞ্জ কেন্দ্রীয় মসজিদের খতিব হাফেজ মাওলানা মফিজুর রহমান, পুরোহিত প্রতিনিধি সুবিমল চক্রবর্তীসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। নির্বাহি ম্যাজিস্ট্রেট আবু সালেহ মোহাম্মদ ইউসুফের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথিদের মধ্য থেকে বর্তমান নির্বাচনি মাঠের পরিস্থিতি নিয়ে অভিযোগ তুলে ধরেন সুনামগঞ্জ সদর আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী দেওয়ান জয়নুল জাকেরীন, জামায়াত মনোনীত প্রার্থী অ্যাডভোকেট মো. শামস উদ্দীন, ইসলামী আন্দোলনের শহীদুল ইসলাম পলাশী, সুনামগঞ্জ-৩ আসনের বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস মনোনীত প্রার্থী শাহীনুর পাশা চৌধুরী, স্বতন্ত্র প্রার্থী ব্যরিস্টার আনোয়ার হোসেন প্রমুখ।
শেয়ার করুন :










