রাজশাহী ওয়ারিয়র্সের বিপক্ষে শেষ বলে এক রান নিতে না পারায় সমালোচনায় পড়েছিলেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। রংপুর রাইডার্সও হেরে বসেছিল ম্যাচটা। আর তাতে সাবেক বাংলাদেশ অধিনায়ক তখন সমালোচনার মুখে পড়ে গিয়েছিলেন। একদিন পরই দৃশ্যপট বদলে দিলেন মাহমুদউল্লাহ। ব্যাট হাতে দেখালেন নিজের আসল রূপ। সিলেট টাইটান্সের বিপক্ষে রংপুরকে ৬ উইকেটের জয় এনে দিয়ে জবাব দিলেন সমালোচনার।
সিলেট টাইটান্সের বিপক্ষে ম্যাচে কাইল মেয়ার্স ফিরে গেলে রংপুর রাইডার্সের দরকার ছিল ৩১ বলে ৫০ রান। উইকেট তখন ‘কঠিন’ হয়ে গিয়েছিল। কাজটা সহজ ছিল না। সেই চাপের সময় মাহমুদউল্লাহ মেহেদী হাসান মিরাজের এক ওভারে মারেন তিনটি চার ও একটি ছক্কা। ওই ওভারে আসে ১৮ রান। ম্যাচের মোড় ঘুরে যায় সেখানেই।
এর আগে মুস্তাফিজুর রহমান ও ফাহিম আশরাফের দারুণ বোলিংয়ে সিলেটকে ১৫০ রানের নিচে আটকে দেয় রংপুর। পরে লিটন দাস, মেয়ার্স ও মাহমুদউল্লাহর ব্যাটে ৬ উইকেটে জয় পায় তারা।

১৪৫ রান তাড়া করতে নেমে দাভিদ মালান ও লিটন দাস ভালো শুরু করেছিলেন। পঞ্চম ওভারে খালেদ আহমেদ জুটি ভাঙেন। শর্ট বল পুল করতে গিয়ে ২১ বলে ১৯ রান করে আউট হন মালান। এরপর তাওহিদ হৃদয় দ্রুত ফিরে যান। নাসুম আহমেদের বলে ব্যাকফুটে খেলতে গিয়ে ১১ বলে ৬ রান করে বোল্ড হন হৃদয়।
লিটন ও মেয়ার্স জুটি গড়ার চেষ্টা করেন। রান তোলার গতি ছিল ধীর। চাপের মধ্যে সাইম আইয়ুবের বলে লং অনে আফিফ হোসেনের হাতে ক্যাচ দেন লিটন। ২৫ বলে ৩৫ রান করেন তিনি। ছিল একটি ছক্কা ও চারটি চার।
এরপর মেয়ার্স ইথান ব্রুকসের ওভারে একটি ছক্কা ও একটি চার মারেন। তবে সেই ওভারেই আউট হন। অফ স্টাম্পের বাইরের বলে এজ হয়ে কিপারের হাতে ধরা পড়েন। ২৯ বলে ৩১ রান করেন তিনি।
শেষ দিকে মাহমুদউল্লাহ ও খুশদিল শাহ ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেন। মোহাম্মদ আমিরের ওভারে দুজন মিলে মারেন দুটি চার। পরের ওভারে খালেদের বলে খুশদিল মারেন একটি ছক্কা ও একটি চার। তখন শেষ ১২ বলে দরকার ছিল মাত্র ৭ রান। পঞ্চম বলে সিঙ্গেল নিয়ে জয় নিশ্চিত করেন মাহমুদউল্লাহ। তিনি অপরাজিত থাকেন ১৬ বলে ৩৪ রানে। খুশদিল করেন ১১ বলে ১৯ রান।
এর আগে টস জিতে সিলেট ব্যাট করতে নামে। শুরুতেই সাজঘরে ফেরেন সাইম ও মিরাজ। মুস্তাফিজ ডানহাতি ব্যাটারকে আউট করে টি–টোয়েন্টিতে ৪০০ উইকেটের মাইলফলক স্পর্শ করেন। তিনি বাংলাদেশের দ্বিতীয় বোলার হিসেবে এই কীর্তি গড়েন।
রনি তালুকদার ১৪ বলে ১৯ রান করে আউট হন। পারভেজ হোসেন ইমন ১৯ বলে ১৫ রান করে ফিরেন। ৬৩ রানে চার উইকেট হারানোর পর আফিফ হোসেন ও ইথান ব্রুকস জুটি গড়েন। দুজন মিলে দলকে শতরানের ঘরে নেন। পরে মুস্তাফিজ ও ফাহিম দুজনকেই ফেরান। আফিফ করেন ৩১ বলে ৪৬ রান। ব্রুকস করেন ৩০ বলে ৩২ রান।
শেষ দিকে দ্রুত উইকেট হারায় সিলেট। শেষ পর্যন্ত তারা তোলে ১৪৪ রান।
শেয়ার করুন :










