গায়বেী টাকায় ৬ তলা ফ্ল্যাট বাড়ী-গাড়ি বেনামে জমিসহ কি নেই ভূমি কমিশনার রাশেদ হোসাইনের। ঘুষ, দুর্নীতি ও অনিয়মের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা উপার্জনের অভিযোগ উঠেছে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রাশেদ হোসাইনের বিরুদ্ধে।
অভিযোগ আছে, নানা অনিয়মের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা উপার্জনের করে গাজীপুর জেলার কালিয়াকৈর উপজেলার সফিপুর এলাকায় ৭শতাংশ জমির উপরে ৬তলা বিশিষ্ট বিশাল বাড়ি বানিয়েছেন। যাহা প্লান বহির্ভূত।
রাশেদ হোসাইন বর্তমানে সাতক্ষীরা শ্যামনগর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি)। তার পিতা আবুল হোসেন জন্ম স্থান ও বাড়ি পার্শ্ববর্তী জেলা টাঙ্গাইলের বাসাইল থানার কাশিল ইউনিয়নের কাশিল গ্রামে। ঐ গ্রামে মুক্তিযোদ্ধা আবুল হোসেন পিতা আব্দুল মালেক নামে একজন মুক্তিযোদ্ধা আছেন। কিন্তু আবুল হোসেন পিতা ইসহাক মিয়া গাজীপুর জেলার কালিয়াকৈর উপজেলার ৬১ নং তালিকাভুক্ত মুক্তিযোদ্ধা। এই বিষয়ে একাধিক স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধারা এই প্রতিবেদককে জানিয়েছেন রাশেদ হোসাইনের পিতা আবুল হোসেন মুক্তিযোদ্ধা কিনা তারা তাকে ভালো করে চিনেন না। অথচ মুক্তিযোদ্ধার কোটায় এবং আওয়ামী ফ্যাসিষ্ট সরকারের সাবেক মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হকের সুপারিশে বিগত ২০২১ সালে ৩৮তম বিসিএস ক্যাডার হিসেবে রাশেদ হোসাইনের চাকরি হয়। এব্যাপারে সহকারী কমিশনার(ভূমি) রাশেদ হোসাইনের পিতা আবুল হোসেন জানান, “আমার ছেলের চাকরীর জন্য সাবেক মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রী আ,ক,ম মোজাম্মেল হক সুপারিশ করেছেন বলেই আজ আমার ছেলে ম্যাজিষ্ট্রেট”। যা তদন্ত করলেই বেরিয়ে আসবে থলের বিড়াল।

অভিযোগের ভিত্তিতে জানা গেছে, রাশেদ হোসাইন চাকরীতে যোগদানের পর থেকে বিভিন্ন জালিয়াতির মাধ্যমে কয়েক বছরে বনে গেছেন কোটি কোটি টাকার মালিক। আবার এই অবৈধ টাকায় বানিয়েছেন বিশাল ৬তলা বাড়ি,নামে-বেনামে কিনেছেন একাধিক জমি, রয়েছে বিলাসবহুল গাড়ি, জোর পূর্বক দখলে রেখেছেন অন্যের জমি। তিনি ম্যাজিষ্ট্রেট হিসেবে সফিপুর এলাকায় পরিচিত হওয়ায় স্থানীয়রা প্রতিবাদ করতে সাহস পায়না। তারই আপন চাচা বীর মুক্তিযোদ্ধা রায়হানের দুই শতাংশ জমি জোর পূর্বক দখলে নিয়ে রাশেদ হোসাইন ও তাহার পিতা আবুল হোসেন গড়ে তুলেছেন বাড়ী। এই ভাবে ক্ষমতার অপব্যবহার, ঘুষ বাণিজ্য, জালিয়াতি, হয়রানি ও বিভিন্ন অনিয়মের মাধ্যমে সম্পদ অর্জনের অভিযোগ সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভুমি) রাশেদ হোসাইনের বিরুদ্ধে। জানা যায়, মন্ত্রি পরিষদ সচিব, দূর্নীতি দমন কমিশন ও ভূমি মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবর লিখিত অভিযোগও দিয়েছেন কয়েকজন স্থানীয় ভুক্তভোগী।আবুল হোসেন এই প্রতিবেদককে জানান, আমি মুক্তিযোদ্ধা রায়হান ভাইয়ের জমি দখল করি নাই তার জমি অন্য দাগে আছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি জানান, খতিয়ান জালিয়াতি, টাকার বিনিময়ে মিসকেস মামলার তদন্ত রিপোর্ট নয়ছয়ে রয়েছে অভিযোগ। ঘুষ, দুর্নীতি ও অনিয়মের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা উপার্জনের অভিযোগ উঠেছে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রাশেদ হোসাইনের বিরুদ্ধে।জানাগেছে,সহকারি কমিশনার (ভূমি) রাশেদ হোসাইন গড়ে তোলেছেন একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট। টাকা ছাড়া কোনো কাজ হয় না সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর এসিল্যান্ড অফিসে।এই শক্তিশালী সিন্ডিকেটের কাছে প্রতিনিয়ত হয়রানি, দুর্নীতি ও ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন সেবাগ্রহীতারা।
সেখানে অনিয়ম, স্বেচ্ছাচারিতা এমন মাত্রায় পৌঁছেছে যে, অনেক ক্ষেত্রে ঘুষ দেয়ার পরও কাজ হচ্ছে না। সেবাগ্রহীতাদের কাছ থেকে অবৈধভাবে অর্থ আদায় করতে তাদের নথিপত্র পর্যন্ত গায়েব করে দেয়া হচ্ছে। জাল দলিলে জমির নামজারি হয়ে যাচ্ছে অন্যের নামে। নামজারি ও খারিজসহ অন্যান্য কাজে ব্যাপক ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। প্রকাশ্যে ঘুষ, দুর্নীতি ও লুটপাটের মহোৎসব চলছে সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর এসিল্যান্ড অফিসে যেন দেখার কেউ নেই ?
এদিকে সহকারী কমিশনার ভূমি রাশেদ হোসাইন এর পিতা কালিয়াকৈর সফিপুর এলাকার মুক্তিযোদ্ধা গেজেটের অন্তর্ভুক্ত, অথচ কালিয়াকৈর উপজেলার মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আক্তার হোসেন সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, সফিপুর এলাকার ৯ নং ওয়ার্ডের মুক্তিযোদ্ধা আবুল হোসেন পিতা ইসহাক নামে কোন ব্যক্তিকে চিনেন না,অত্র এলাকার ৯ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মোঃ আহাদ আলী সাংবাদিকদের বলেন এই সফিপুরে বাইরে অনেক লোকই থাকে, আমার জানামতে এই নামে কোন মুক্তিযোদ্ধা আছে কিনা তা বলতে পারতেছি না।
সহকারী কমিশনার ভূমি রাশেদ হোসাইনের পিতার মুক্তিযোদ্ধা আবুল হোসেনের পিতা,মৃত, ইসহাককে ঘিরে সফিপুর এলাকায় নানান গুঞ্জন লোকমুখে,এরই জেরে, স্থানীয় সাংবাদিকরা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রাশেদ হোসাইনের পিতা মুক্তিযোদ্ধা আবুল হোসেনের সাথে কথোপকথনের মাধ্যমে, সাংবাদিকদের বলেন তাহার জন্মস্থান টাঙ্গাইল জেলার বাসাইল থানার কাশিল ইউনিয়ন ও কাশিল গ্রামের প্রাইমারী স্কুলের সাথেই ছিল তাহার বাড়ি, তিনি মুক্তিযুদ্ধ শেষে টাঙ্গাইল কাশিল এলাকার মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকাতে তার নাম অন্তর্ভুক্ত হয়।
পরে তিনি স্বপরিবারে গাজীপুর জেলার কালিয়াকৈর উপজেলার সফিপুর এলাকায় স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন। অথচ টাঙ্গাইল জেলার বাসাইল থানার কাশিল গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, ওই গ্রামে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা আবুল হোসেন পিতা আব্দুল মালেক তিনি তিন ছেলে এবং তিন মেয়ে রেখে মারা যান। এই মুক্তিযোদ্ধার নামও আবুল হোসেন তার পিতার নাম আব্দুল মালেক তার স্ত্রীর নাম খোদেজা। টাঙ্গাইলের কাশিল গ্রামের প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধার পরিবারের সদস্যরা বলেন, এই মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের কোন সদস্য মুক্তিযোদ্ধা কোটায় কোন চাকরি পাননি , কাশিল গ্রামের পরিচয়দানকারী মুক্তিযোদ্ধা আবুল হোসেন পিতা ইসহাক এই নামে কাশিল গ্রামে একজনই ছিল মুক্তিযোদ্ধা, যার নাম মুক্তিযোদ্ধা আবুল হোসেন পিতা আব্দুল মালেক মাতা আমেনা , এবং তার স্ত্রীর নাম খোদেজা।। সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রাশেদ হোসাইনের পিতা মুক্তিযোদ্ধা আবুল হোসেন বলেছেন,
তার পিতা ইসহাক বর্তমানে গাজীপুর জেলার কালিয়াকৈর উপজেলার শফিপুর এলাকার ৯ নং ওয়ার্ডের ৫০ বাড়িতে বসবাস করেন এই মুক্তিযোদ্ধাকে চিনেন কিনা? এব্যাপারে সাংবাদিকরা টাঙ্গাইল জেলার বাসাইল থানার কাশিল গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম,মুক্তিযোদ্ধা আব্বাস, মুক্তিযোদ্ধা কালু মিয়াসহ এলাকাবাসীরা জানান, মুক্তিযোদ্ধা আবুল হোসেন পিতা আব্দুল মালেক তার পিতার নাম লাল মিয়া ব্যতীত অত্র কাশিল গ্রামে অন্য কোন আবুল হোসেন নামে মুক্তিযোদ্ধা নেই। আবুল হোসেন পিতা ইসহাককে বাসাইল থানার মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার তিনি নিজেও চিনতে পারেন নাই উনি মুক্তিযোদ্ধা কিনা?
টাঙ্গাইলের কাশিল গ্রামের উপস্থিত কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধা ও এলাকাবাসী সাংবাদিকদের জানান, সাতক্ষীরা সহকারি কমিশনার (ভূমি) রাশেদ হোসাইন ও তার পিতা মুক্তিযোদ্ধা আবুল হোসাইন তার পিতা ইসহাক নামে কোন ব্যক্তিকে অত্র গ্রামে মুক্তিযুদ্ধ বা ব্যক্তিগতভাবেও চিনেন না।এই গ্রামে কখনো কোথাও তাদের বসবাস ছিল না। এলাকাবাসীর দাবি আগে মুক্তিযোদ্ধাদের নাম ঠিকানা ব্যবহার করে যদি কোন ব্যক্তিকে মুক্তিযোদ্ধা তালিকাভুক্ত করা হয় অন্য ঠিকানায় আর সেই বিতর্কিত মুক্তিযোদ্ধার কোঠায় যদি কারোও সরকারি চাকরি হয়ে থাকে তার বিরুদ্ধে এবং বিতর্কিত মুক্তিযোদ্ধার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্থক্ষেপ কামনা করেন।
শেয়ার করুন :










