দিনাজপুরে খাদ্য বিভাগের ‘সহকারী খাদ্য পরিদর্শক’ পদের নিয়োগ পরীক্ষায় দুইজনকে আটক করেছে প্রশাসন। এদের মধ্যে মিফতাহুল জান্নাত নামে এক তরুণকে আটক করা হয়েছে ‘প্রক্সি’ পরীক্ষা দিতে এসে এবং শিরিন আক্তার নামে অন্য এক তরুণীকে আটক করা হয়েছে বিশেষ কৌশলে লুকানো ডিভাইস নিয়ে পরীক্ষা কেন্দ্রে প্রবেশের অভিযোগে।শনিবার (২৯ নভেম্বর) সকালে দিনাজপুর কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে (টিটিসি) খাদ্য বিভাগের ‘সহকারী খাদ্য পরিদর্শক’ পদে নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।
পরীক্ষা শেষে তাদের আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করে কর্তৃপক্ষ।আটক মিফতাহুল জান্নাত রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার ছোট রসুলপুর গ্রামের রেজাইল করিমের ছেলে। তিনি রংপুর কারমাইকেল কলেজের ব্যবস্থাপনা বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী এবং ডিভাইসসহ আটক চাকরি প্রার্থী শিরিন আক্তারের বাড়ী পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলায়।সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, মিফতাহুলের কেন্দ্র ছিল ভবনের নিচতলায় অটোমেটিক ট্রেড কক্ষে। পরীক্ষা চলাকালে হল পরিদর্শক উত্তরপত্রে স্বাক্ষর করতে গিয়ে ছবির সঙ্গে তার চেহারার মিল না পাওয়ায় সন্দেহ হয়। পরে জিজ্ঞাসাবাদে সংশ্লিষ্ট নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে সব কথা স্বীকার করেন মিফতাহুল। পরে তাকে পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়।এ সময় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) এসএম হাবিবুল হাসান ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) জানে আলম। মিফতাহুলের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলমান আছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এসময় প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মিফতাহুল জান্নাত জানান, তিনি রংপুর কারমাইকেল কলেজে ব্যবস্থাপনা বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী। শহরের নজরুল চত্বর এলাকায় মেসে থাকেন। সেখানে বাসা ভাড়া ও খাবার বাবদ বকেয়া পড়েছিল আট হাজার টাকা। দুই মাস ধরে তা পরিশোধ করতে পারছিলেন না। দুই দিন আগে মেস মালিক শরীফ বাবু তাকে প্রস্তাব দেন খাদ্য বিভাগের নিয়োগ পরীক্ষায় অন্যের হয়ে পরীক্ষা দিলে মেসের বকেয়া টাকা দিতে হবে না। তাই তিনি প্রক্সি দিতে এসেছেন।এদিকে দিনাজপুর সদর উপজেলার পরজপুর ফাসিলাডাঙ্গা হাইস্কুল কেন্দ্রে ডিভাইস নিয়ে পরীক্ষা দিতে এসে পুলিশের হাতে আটক হয়েছেন শিরিন আক্তার নামের এক চাকরি প্রত্যাশী। নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ নিতে কক্ষে বসেন ওই নারী পরীক্ষার্থী। তার জামার ভেতরে বিশেষ কৌশলে সেলাই করা ছিল একটি ডিভাইস, কানে ছিল আরেকটি। পরনে ছিল বোরখা। এসব তথ্য পেয়েছিল পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)।

ওই পরীক্ষার্থী ওএমআর শিট পূরণ করেছেন সবেমাত্র। এ সময় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে সঙ্গে নিয়ে তার শরীর তল্লাশি করা হয়। আর তাতেই বেরিয়ে আসে ডিভাইস দুটি। পরে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাকে নেওয়া হয় পুলিশি হেফাজতে।ওই তরুণীকে আটকের সময় দিনাজপুর জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জারিফ সুলতান, কেন্দ্রসচিব সালমা খাতুনসহ জেলা গোয়েন্দা পুলিশের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।জেলা ডিবির উপ-পরিদর্শক আবদুল খায়ের বলেন, আটক ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এরই মধ্যে তারা কয়েকজনের নাম বলেছেন। সেই সূত্র ধরে আমরা পুরো চক্রটিকে ধরার চেষ্টা করছি। তাদের বিরুদ্ধে পাবলিক পরীক্ষা আইনে নিয়মিত মামলার প্রস্তুতি চলছে।দিনাজপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) এস এম হাবিবুল হাসান বলেন, কিছুদিন আগেও দিনাজপুরে ডিভাইস নিয়ে নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার ঘটনায় একটি চক্রের তিন সদস্যকে আমরা আটক করেছিলাম। তখন থেকেই বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। এর ধারাবাহিকতায় আজ দুটি চক্রের সন্ধান পাওয়া গেছে। চক্রের অন্য সদস্যদের ধরতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও কাজ করছে।
শেয়ার করুন :










