রবিবার , ৮ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২৫শে মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ

বছরের প্রথম দিনে নতুন বই পাচ্ছে না মাধ্যমিকের সব শিক্ষার্থী

২০২৬ শিক্ষাবর্ষের প্রথম দিন আজ বৃহস্পতিবার সরকারিভাবে কোনো বই উৎসবের আয়োজন করা হচ্ছে না। তবে এদিন শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন বই তুলে দেওয়া হবে। কিন্তু মাধ্যমিকের বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী সব পাঠ্যবই আজকে হাতে পাবে না। কেননা, ২০২৫ খ্রিষ্টাব্দের শেষ দিন গতকাল বুধবার বিকেল পর্যন্ত মাধ্যমিকের ২৭ শতাংশের বেশি বই সরবরাহ করতে পারেনি জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)। অবশ্য এনসিটিবির কর্মকর্তারা আশা করছেন, জানুয়ারির মাঝামাঝি সময়ের মধ্যে মাধ্যমিকের শিক্ষার্থীরা সব বই হাতে পাবে। তবে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, শিক্ষার্থীদের সব বিষয়ের সব বই হাতে পেতে এপ্রিল মাস গড়াতে পারে।

দেড় দশক ধরে শিক্ষাবর্ষের প্রথম দিন আংশিক বই ঘটা করে শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দিচ্ছিল এনসিটিবি। অনুষ্ঠানের নামে খরচ করা হতো কাড়ি কাড়ি টাকা। গৃহপালিত মিডিয়া দেখানো হতো নতুন বছরের প্রথম দিন দেশজুড়ে শিক্ষাঙ্গনে উৎসবের আমেজ । তবে, গত বছর এসব শুভংকরের ফাঁকি ধরা পড়ে শিক্ষা উপদেষ্টা ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদের হাতে। তিনি সিদ্ধান্ত নেন যেহেতু কোনো বছরেই প্রথম দিনে পুরো সেট পাঠ্যবই তুলে দেওয়া সম্ভব হয় না সেহেতু এত ঘটা করে বই উৎসবের কি দরকার। এবার পাঠ্যবই ছাপার প্রক্রিয়া আগেভাগেই শুরু করা হয়েছিল। গত নভেম্বরের মধ্যে সব পাঠ্যবই ছাপিয়ে মাঠপর্যায়ে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যও নির্ধারণ করা হয়েছিল। সে অনুযায়ী দরপত্রের প্রক্রিয়া প্রায় শেষ করে মূল্যায়নের কাজও শেষ করা হয়েছিল। তবে শেষ সময়ে (নভেম্বরে) ষষ্ঠ, সপ্তম ও অষ্টম শ্রেণির পাঠ্যবই ছাপার দরপত্র বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। ফলে নতুন করে দরপত্র আহ্বান করে বই ছাপানোর কাজ শুরু হয়। এ কারণে এবারও মাধ্যমিকের সব পাঠ্যবই সময়মতো সরবরাহ করতে পারছে না এনসিটিবি।

এনসিটিবির তথ্য অনুযায়ী, নতুন শিক্ষাবর্ষে বিনামূল্যে বিতরণের জন্য প্রাথমিক স্তরে মোট পাঠ্যবইয়ের সংখ্যা ৮ কোটি ৫৯ লাখের বেশি। এরই মধ্যে শতভাগ বই সরবরাহ করা হয়েছে। ফলে প্রাথমিকের শিক্ষার্থীরা শিক্ষাবর্ষের শুরুতেই সব বই পাবে। তবে সংকট মাধ্যমিক স্তরের বই নিয়ে।

মাধ্যমিক স্তরে (ইবতেদায়িসহ) মোট পাঠ্যবইয়ের সংখ্যা ২১ কোটি ৪৩ লাখ ২৪ হাজার ২৭৪। এর মধ্যে গতকাল বিকেল পর্যন্ত মাঠপর্যায়ে সরবরাহ করা হয়েছে ৭২ দশমিক ৭১ শতাংশ বই। যদিও গতকাল পর্যন্ত ছাপা হয়েছে প্রায় ৮৮ শতাংশ বই। নিয়মানুযায়ী, পাঠ্যবই ছাপার পর সেগুলো বাঁধাই করা হয়। এরপর সরবরাহের আগে নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সরবরাহ-পূর্ব পরিদর্শন (পিডিআই) সম্পন্ন করতে হয়। পিডিআইসহ আনুষঙ্গিক সব কাজ শেষে বই মাঠপর্যায়ে সরবরাহ করা হয়। এনসিটিবির তথ্য অনুযায়ী, গতকাল পর্যন্ত মাধ্যমিক স্তরের ৮১ দশমিক ১৩ শতাংশ বইয়ের পিডিআই সম্পন্ন হয়েছে।

এনসিটিবি সূত্র জানায়, মাধ্যমিকের বইয়ের মধ্যে ষষ্ঠ এবং নবম-দশম শ্রেণির বই ছাপা ও বিতরণের কাজ তুলনামূলকভাবে এগিয়ে আছে। ইবতেদায়ি স্তরের বই নিয়েও সংকট নেই। তবে সপ্তম ও অষ্টম শ্রেণির বই ছাপা ও সরবরাহের কাজ পিছিয়ে রয়েছে। সপ্তম শ্রেণির মোট বইয়ের সংখ্যা ৪ কোটি ১৫ লাখের বেশি এবং অষ্টম শ্রেণির মোট পাঠ্যবই ৪ কোটি ২ লাখের বেশি।

এনসিটিবির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, বিগত বছরগুলোর মতোই এবারেও বছরের শুরুতেই সব শিক্ষার্থীর হাতে অন্তত কয়েকটি করে বই তুলে দেওয়া হবে। তবে মাধ্যমিক বিশেষ করে সপ্তম ও অষ্টম শ্রেণির সব বই শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দিতে আরও কিছুদিন লাগবে। তবে এ বিষয়ে এনসিটিবির সচিব অধ্যাপক মো. সাহতাব উদ্দিন বলেন, তাদের পরিকল্পনা হলো বছরের প্রথম দিনেই সব শিক্ষার্থীর হাতে নতুন বই তুলে দেওয়া-সেটা দুটি, তিনটি, পাঁচটি যা-ই হোক। সেভাবেই কার্যক্রম চালিয়েছেন। বিতরণ পর্যায়ে কোনো অসুবিধা না হলে সব শিক্ষার্থীই বছরের প্রথম দিন নতুন বই পাবে। তিনি আরও বলেন, প্রাথমিক ও ইবতেদায়ি স্তর এবং ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর শিক্ষার্থীদের শতভাগ পাঠ্যবই সরবরাহ হয়ে গেছে। ষষ্ঠ ও নবম শ্রেণির বইও ৯০ শতাংশের বেশি চলে গেছে। আর সপ্তম ও অষ্টম শ্রেণির ৬০ শতাংশের বেশি বই চলে গেছে।

অন্তর্বর্তী সরকারের সিদ্ধান্তে বছরের প্রথম দিনে উৎসব করে কাড়ি কাড়ি টাকা খরচ করা হয় না। বিদ্যালয়গুলোতে বই পৌঁছে দেওয়া হয়, পরে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ শিক্ষার্থীদের হাতে বই তুলে দেয়।

পাঠ্যপুস্তক বোর্ডে দীপু মনি সিন্ডিকেট সক্রিয় থাকায় এবারও দেরি হচ্ছে পাঠ্যবই বিতরণে। সূত্র: দৈনিক শিক্ষাডটকম

 

উত্তর অঞ্চলকে মানুষ মঙ্গা এলাকা বলে থাকেন, কিন্তু বাস্তবে এটি তো অত্যন্ত সম্ভাবনাময় এলাকা নীলফামারীতে তারেক রহমান

উত্তর অঞ্চলকে মানুষ মঙ্গা এলাকা বলে থাকেন, কিন্তু বাস্তবে এটি তো অত্যন্ত সম্ভাবনাময় এলাকা নীলফামারীতে তারেক রহমান

বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন নীলফামারীকে আধুনিক জেলা হিসেবে সুস্পষ্ট পরিকল্পনা রয়েছে। এ অঞ্চলের মানুষ কৃষিজীবী, তাই কৃষি প্রধান এলাকা...

প্রবীণ সাংবাদিক জাকারিয়া কাজল আর নেই

প্রবীণ সাংবাদিক জাকারিয়া কাজল আর নেই

চির নিদ্রায় শায়িত হলেন ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ও সিনিয়র সাংবাদিক জাকারিয়া কাজল। শনিবার জাতীয় প্রেস ক্লাব ও...

Ad For Sangbad mohona